ঢাকা-১৭ আসনে তারেক-খালিদুজ্জামানের ভোটের ব্যবধান 'সামান্য': জরিপ
নির্ণায়ক ‘সিদ্ধান্তহীন’ ভোটাররা

প্রকাশ :
সংশোধিত :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’-এর এক সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. শিব্বির আহমদ জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৭ আসনের ৫১৫ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে তারেক রহমান (বিএনপি) ৩৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। ডা. এস এম খালিদুজ্জামান (জামায়াত) ৩২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।
জরিপ বলছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন এবং ১৫ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দ প্রকাশ করতে রাজি হননি। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন এই ২৫ শতাংশ ‘সাইলেন্ট ভোটার’ বা নীরব ভোটব্যাংকই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।
জরিপে ভোটারদের ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা বেশি (৪৭%)। অন্যদিকে ২৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থন তুলনামূলক বেশি।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ভোটারদের ৪৩% বিএনপিকে এবং ২৪% জামায়াতকে সমর্থন করেছেন। এইচএসসি বা সমমান শিক্ষিতদের ৩৯% জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে। তবে উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে দুই দলের সমর্থনই সমান (৩১%)।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি থাকলেও বেসরকারি চাকরিজীবী ও গৃহিণীদের পছন্দের তালিকায় সামান্য এগিয়ে জামায়াত।
কাকে ভোট দেবেন—সেটা ভিন্ন বিষয় হলেও, ‘কে জিততে পারেন?’—এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪৬.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন তারেক রহমানই জয়ী হবেন। অন্যদিকে ২৭.৪ শতাংশ মনে করেন ডা. এস এম খালিদুজ্জামান জিতবেন।
নারীদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার বেশি (প্রায় ৩১.৮ শতাংশ), যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.